আলীকদমে হামের উপসর্গে গৃহবধূর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৯৪
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় হামের উপসর্গজনিত জটিলতায় এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকালে আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ নিয়ে উপজেলায় সরকারি হিসাবে হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিনজনে।
মৃত সংপ্রং ম্রো (১৮) উপজেলার কুরুকপাতা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দওলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি তাঁর বিয়ে হয়েছিল।
কুরুকপাতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো জানান, প্রায় এক সপ্তাহ আগে সংপ্রং ম্রোর জ্বর ও হালকা কাশি দেখা দেয়। দুর্গম এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে বৃহস্পতিবার রাতে ডায়রিয়া শুরু হলে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। শুক্রবার সকালে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. হানিফ বলেন, গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। অতিরিক্ত পানিশূন্যতা ও দুর্বলতার কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার একই ইউনিয়নের এক বছরের শিশু তুমরাও ম্রো হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যায়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবকদের দাবি, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে বেশি এবং এ পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় সংগঠন ‘ম্রো ইয়ুথ অর্গানাইজেশন’-এর সভাপতি সেথং ম্রো জানান, দুর্গম এলাকায় বসবাসকারী ম্রো জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। গত দেড় মাস ধরে স্বাস্থ্য বিভাগ, সেনাবাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা কাজ করলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৬৮ জনসহ মোট ৯৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। গুরুতর অসুস্থ সাতজনকে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সেখানে এক শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
বান্দরবানের সিভিল সার্জন শাহীন হোসাইন চৌধুরী বলেন, আক্রান্তদের চিকিৎসায় কোনো ঘাটতি নেই। ৩১ শয্যার হাসপাতালে অতিরিক্ত রোগীদেরও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।